মঙ্গলবার 27 জুন 2017 Bookmark and Share
| প্রাপ্তি সাধ্য ভাষাসমূহ

শান্তি ও অহিংসার লক্ষ্যে বিশ্বপরিভ্রমণ

পরিভ্রমণ দিন 93 !
০২ অক্টোবর ২০০৯
০২ জানুয়ারী ২০১০


PUNTA DE VACAS 2010 - প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ



Download: BEN_Document.pdf

শান্তি ও অহিংসার লক্ষ্যে বিশ্ব পরিভ্রমণ : একটি মানবতাবাদী প্রস্তাবনা

“শান্তি ও অহিংসার জন্য বিশ্ব পরিভ্রমণ” এর সূচনা হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৫ নভেম্বরে, আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত পুনতা দি ভাকাস এর সেন্টার ফর হিউম্যানিষ্ট স্টাডিজ এর সম্মেলনের মাধ্যমে।

বিশ্ব পরিভ্রমণের লক্ষ্য হচ্ছে আমরা যে পৃথিবীতে বসবাস করছি সেই পৃথিবীর বিপদ, ঝুঁকি এবং সংকটপূর্ণ অবস্থা যা আমাদের সবার কাছে চিহ্নিত, পারমানবিক দ্বন্দ্ব এবং নতুন অস্ত্রের প্রতিযোগিতা এমনকি সামরিক শক্তির মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র অন্য একটি রাষ্ট্রকে নিজ দখলে নিয়ে আসার ব্যাখ্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

Humanist Movement এবং ¨ World Without Wars¨ (যুদ্ধ মুক্ত বিশ্ব)

সংগঠনের মাধ্যমে উপস্থাপিত হওয়া এই World Marchটি অভুতপূর্ব সামাজিক একত্রীকরনের একটি প্রস্তাব। যেহেতু আগে থেকেই এর সূচিত প্রস্তাবগুলো খুব দ্রুততার সাথে উন্নতি  লাভ করে আসছে, তাই অল্প কয়েক মাসেই এই ‘World March for Peace & Nonviolence’ হাজার হাজার ব্যক্তিবর্গের দ্বারা সমন্বিতভাবে অনুমোদন লাভ করেছে যাদের মধ্যে রয়েছে pacifist (শান্তিবাদী) ও অসহিংসদের দল, বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা, যারা প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সময়ের সংকীর্ণতার ব্যাপারে সংবেদনশীল। বিশ্ব পরিভ্রমণ একটি দ্রুত বর্ধনশীল মানবিক বিষ্ময়কর ঘটনা হিসেবে ১০০ টিরও বেশী দেশে ব্যাপকসংখ্যক নানামূখী পদক্ষেপকে অনুপ্রানিত করেছে। (www.theworldmarch.org)

বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে বিশাল এলাকাগুলো দারিদ্রতা এবং সামাজিক আন্তঃদ্বন্দ্বের অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা সমগ্র বিশ্ব জুড়ে একটি সংকটপূর্ণ অবস্থার সম্মুখীন। সহিংসতা এবং বৈষম্য জনগনের বিশাল একটা অংশের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে দূষিত করছে। অস্ত্রের দ্বন্দ্ব বিভিন্ন এলাকায় মহামারি আকার ধারণ করেছে এবং বর্তমানে আমরা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও ব্যাপক সংকটের মুখোমুখি।

সকল সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সমস্যাটি হলো ক্রমবর্ধমান পারমানবিক হুমকি যার ফলে আমরা অত্যন্ত জটিলতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছি। শুধুমাত্র পারমানবিক শক্তি অর্জনে দায়িত্বজ্ঞানহীন উৎসাহ এবং সহিংস পক্ষের সম্ভাব্য পারমানবিক যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের মত পাগলামীর ব্যাপারেই নয় বরং আমাদেরকে পারমানবিক দুর্ঘটনা সম্পর্কিত ঝুঁকি যা একটি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক দ্বন্দ্বের দ্বার উন্মোচন করতে পারে সেটি নিয়েও ভাবতে হবে।

এগুলো শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন সংকটের সমষ্টিই নয় বরং আমরা একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হচ্ছি যার কার্যপদ্ধতি হচ্ছে সহিংসতা এবং মূল উপাদান হচ্ছে অর্থ।

World March এর প্রস্তাবনা সমূহ

ভবিষ্যত পারমানবিক ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে আমাদেরকে অবশ্যই সহিংসতা বর্জন করতে হবে। কর্মপন্থা সমূহঃ:

• বিশ্বব্যাপী পারমানবিক অস্ত্রের নিরস্ত্রীকরণ।
• যুদ্ধে লিপ্ত সৈন্য বাহিনীকে দখলকৃত স্থান থেকে দ্রুত সরিয়ে আনা।
• ক্রমান্বয়ে এবং সমানুপাতে মানব বিধ্বংসী মারণাস্ত্র হ্রাস করা।
• রাষ্ট্র সমুহের মধ্যে অনাক্রমণ চূক্তি স্বাক্ষর করা।
• ‘ দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল হিসেবে যুদ্ধ’- এই ধারণাকে সরকারসমূহ কর্তৃক পরিত্যাগ ঘোষণা। 

শান্তি এবং নিরস্ত্রীকরনের জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করাটা খুবই জরুরী হয়ে উঠেছে। অসহিংসতার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করাটাও খুব প্রয়োজন যা শুধুমাত্র শারীরিক সহিংসতাকেই প্রত্যাখ্যান করে না বরং অন্যান্য সকল ধরনের সহিংসতাকেও (অর্থনৈতিক, জাতিগত, মানবিক, ধর্মীয়, যৌন ইত্যাদি) প্রত্যাখান করে। নতুন এই অনুভূতি সামাজিক কাঠামো গুলোকে মূল থেকে অনূপ্রাণিত করে যা ভবিষ্যতের সর্বজনীন মানব জাতির পথ খুলে দেয়।

শান্তি এবং নিরস্ত্রীকরনের জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করাটা খুবই জরুরী হয়ে শান্তিপূর্ণ এবং স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা আমাদের অধিকার দাবী করছি। আমরা যখন সহিংসতার হুমকির মধ্যে থাকি তখন আমরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারি না।

এই ওয়ার্ল্ড মার্চ মানুষের প্রতি তাদের ব্যক্তিগত সহিংসতা এড়িয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিশ্বকে পরিবর্তন করার দায়িত্ব পালন, নিজ নিজ পরিবেশে কাজ করা এবং আশেপাশে সাধ্যমত প্রভাব বিস্তারের জন্য আহবান করছে।

 

কার্যক্ষেত্রে বিশ্বপরিভ্রমণ

 

অহিংসা ও শান্তির জন্য এই বিশ্বপরিভ্রমণ ইতোমধ্যে  বিভিন্ন ধরণের কার্যাবলি ও পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহতি করেছে এবং এসব কার্যাবলি ও পদক্ষেপ আগামী মাসগুলোতে আরো অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসাংস্কৃতিক দলের প্রতিকী যাত্রা যা ছয়টি মহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। আর এটা শুরু হবে ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসের ০২ তারিখে, আন্তর্জাতিক অসহিংসা দিবসে, নিউজিলেন্ডের ওয়েলিংটান নামক স্থান থেকে এবং শেষ হবে ২০১০ সালের ০২ জানুয়ারী আর্জেন্টিনার পুনতা দি  ভাকাস এর মাউন্ট একাস্কাগুয়া পর্বতের পাদদেশে।
বাংলাদেশে ০৯ অক্টোবর’০৯ তারিখে এটি পরিভ্রমণ করবে।

আর ঐ সময়টাতে বিশ্বের শত শত শহরে অহিংসা ও শান্তির অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে পদযাত্রা, উৎসব, বৈঠক, সম্মেলন এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান। এবং সমগ্র বিশ্বজুড়ে এই পদযাত্রার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করার অভিযান এ সংকেতকে এতটাই সম্প্রসারিত করবে যা এখন চিন্তারও বাইরে। ইতিহাসে এই প্রথম এমন যাত্রার ঘটনা জনগণের উদ্যোগের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্ব পদযাত্রার প্রকৃত শক্তি তাদের সচেতন ও সাধারণ কাজ থেকে জন্মেছে, যারা এই মহিমান্বিত ব্যাপারটিকে অনুমোদন করে এবং অন্যদের সাথে বিনিময় করে।


হিউম্যানিস্ট মুভমেন্টের জন

ওয়াল্ডমার্চের জন্য স্পোকস্ পার্সন : রাফায়েল ডি লা রুবিও
আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য স্পোকস্ পার্সন : মিশেল ইউসেনা
এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য স্পোকস্ পার্সন : সুধীর গানধোত্রা
ইউরোপ অঞ্চলের স্পোকস্ পার্সন : জর্জিও স্কুলটজ্
ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের স্পোকস্ পার্সন :  টমাস হাটস্
উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের স্পোকস্ পার্সন : ক্রিস ওয়েলস্

www.theworldmarch.org ®2017 | শেষবারের পরিবর্তন: 17:42 - 19/11/2011 (UTC/GMT) | সিদ্ধান্ত : 1024/768 | শৃঙ্গ
লগইন ইউজার | Privacy | Sitemap | Sponsors | Gadgets Shop